রাসিক নির্বাচন : অর্থনীতির গতি সঞ্চার করতে চান লিটন প্রচারে বাধা দেয়ার অভিযোগ বুলবুলের

রাজশাহী: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে প্রচারে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বিএনপির মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গতকাল বুধবার নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় তারা দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দিনভর ব্যস্ত ছিলেন গণসংযোগে। এসময় আওয়ামীলীগের খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, নগরীর থেমে থাকা অর্থনীতির গতি ফেরাতে ভোটাররা তাকে ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অন্যদিকে, বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের অভিযোগ, তার প্রচার কাজে জড়িতদের নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছে সরকার সমর্থক মেয়র প্রার্থীর লোকজন।
রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট চেয়ে গতকাল বুধবার নগরীর আরডিএ মার্কেটে গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত ও মহাজোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বেলা সাড়ে ১১টায় আরডিএ মার্কেটের প্রধান ফটকের সামনের দোকানগুলো থেকে গণসংযোগ শুরু করেন এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর আরডিএ মার্কেটের ভেতরসহ আশপাশের বিভিন্ন দোকানে দোকানে গিয়ে তিনি নগরীর উন্নয়নে নৌকায় মার্কায় ভোট চান। এসময় ব্যবসায়ীরা খায়রুজ্জামান লিটনকে সমর্থন দিয়ে তাঁর পক্ষে ভোট চান এবং নৌকার বিজয়ের জন্যে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
গত পাঁচ বছর মেয়র থাকলে নগরীর অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হতো দাবি করে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, তিনি মেয়র থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হতো, শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠতো। কিন্তু গত ৫ বছর নগরীতে বিএনপির মেয়র থাকার কারণে এসবের কিছুই হয়নি। নগরবাসী বুঝে গেছে, কাকে ভোট দিলে নগরীর উন্নয়ন হবে, কাকে ভোট দিলে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে। তাই এখন সবার মুখে মুখে নৌকা প্রতীকের কথা।
আরডিএ মার্কেট সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মাদুদ হাসান বলেন, ‘আরডিএ মার্কেটের সব ব্যবসায়ী লিটনের জন্য ঐক্যবদ্ধ। যে মানুষ নগরীর উন্নয়নে কোনো অবদান রাখতে পারেন না, ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ান না, তাকে এবার ব্যবসায়ীরা ভোট দেবেন না। আমরা ব্যবসায়ীরা দলমত নির্বিশেষে খায়রুজ্জামান লিটনকে ভোট দেবো।’
গণসংযোগের সময় এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে আরো ছিলেন ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর একেএম রাশেদুল হাসান, ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি জাহিদুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য রাজিব হাসান, সুলতান আহম্মেদ, এসএম গোলাম আওলিয়া ওলি, বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান কালু, ১২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হাসান প্রমুখ।
এদিকে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন নির্বাচনী গণসংযোগ করেন নগরীর এক নম্বর ওয়ার্ডে। এসময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনসহ দলীয় নেতারা তার সাথে ছিলেন। সকালে বুলবুল কাশিয়াডাঙ্গা ও কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। এসময় তিনি বলেন, সরকার অন্যায়ভাবে ৭৩ বছরের বৃদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে। রাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করতে চান দাবি করে বুলবুল বলেন, তার নির্বাচনী প্রচার কাজে নানাভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। তার পোস্টার ও ফেস্টুন বহনকারী পিকআপ গাড়ি সরকার সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর লোকজন ভাংচুর করছে। মাইকে যারা তার প্রচার কাজ করছে তাদের প্রচার কাজ না চালাতে হুমকি দেয়া হচ্ছে। দিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তার যেসক ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হচ্ছে, রাতারাতি সরকার দলের নেতাকর্মীরা সেসব সরিয়ে ফেলছে। বুলবুল বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এসব অভিযোগ করে কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনকে মেরুদন্ডহীন আখ্যা দিয়ে বুলবুল বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের যে আচরণ, তাতে রাজশাহীতে সুষ্ঠু নির্বাচন না হবার আশঙ্কাই করছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে ভোটাররা তাকে বলছেন, তারা ভোট দিতে যেতে পারবেন কিনা। বুলবুলকে ভোট দিলে সেই ভোট গণনা হবে কিনা। বুলবুল বলেন, তৃণমূলের একজন সাধারণ খেটে খাওয়া ভোটারেরও আশঙ্কা নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে না। তিনি বলেন, এরপরও আমরা নির্বাচনী মাঠে থেকে দেশ ও বিশ্ববাসীকে দেখাতে চাই, সরকার দল নির্বাচনের নামে কতোভাবে তামাশা করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here