প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করার : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ৫ জুন, ২০১৮  : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি শুধু আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য নয়, তাঁর রাজনীতি হলো পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করা।
তিনি বলেন, দেশের তরুন সমাজকে রক্ষা করার জন্য মাদকের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। কারণ দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তরুন সমাজকে রক্ষা করতে হবে।
কাদের আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আজ দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘ পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়ারনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডীন এবং দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এ এম মাকসুদ কামাল।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ড. আতিক রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।
ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, দেশে অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু সে দলগুলোর নেতারা মাদকের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেন না। যারা এখন মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে মায়াকান্না করছে কখনো তাদের মুখে মাদক বিরোধী কথা শুনা যায় নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই একমাত্র মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করার দায়িত্ব শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যার একার নয়, অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।
বিএনপির মহানগর কমিটি নিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের কথা উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মহানগর কমিটিতে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীরা স্থান পেয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাই বিএনপিতে মাদক ব্যবসায় কারা রাঘব বোয়াল ও চুনোপুটি তাও খুঁজে বের করা হবে।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো নিরীহ মানুষকে টার্গেট করে রাজনীতি করে না। তাই তদন্তে টেকনাফের কাউন্সিলর একরাম নির্দোষ প্রমান হলে দায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশ গ্রহনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী গত ৫ জানুয়ারীর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি বলে নির্বাচন থেমে থাকে নি।
তিনি বলেন, সংবিধান এবং গণতন্ত্র কখনো কারো জন্য থেমে থাকে না। আর বিএনপি তাদের ভুলের পুনরাবৃত্তি করলে তাদের সে ভুলের মাশুলও তাদেরকেই দিতে হবে।
দেশে আর কখনো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ হবে না বলে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে বিএনপি যে খোয়াব দেখছে তা কখনো বাস্তবায়িত হবে না। কারণ বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করলেও নির্বাচন কমিশনের অনেক নিবন্ধিত দল রয়েছে, যারা নির্বাচনে অংশ নেবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তার গঠনতন্ত্র থেকে ৭ ধারা বাতিল করে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানকে দলীয় পদে রাখার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
বিএনপিকে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ ধারা তুলে দিয়ে গভীর খাদে পড়ে গেছে। সে খাদ থেকে বিএনপি আর কখনো উঠে দাড়াতে পারবে না। (বাসস)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here