মিয়ানমার স্বীকার করলেও কিছুই কার্যকর করে না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১১ লাখ শরণার্থীর মধ্যে চিকিৎসা সেবা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ তাদের সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এসব শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কিন্তু দূর্ভাগ্য হলো, তারা সবই স্বীকার করে কিন্তু কিছুই কার্যকর করে না।

আজ রোববার সকালে ঢাকা সেনা নিবাসে সিএমএইচের ক্যান্সার সেন্টার, অফিসার্স ক্লাব ও ভোজ্য তেলের মিলসহ বিভিন্ন সেনানিবাসের ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ১১ লাখ শরণার্থী আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক কারণেই আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। তাদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ তাদের সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব সকলেই সম্মিলিতভাবে করে যাচ্ছে এবং সেনাবাহিনী সেখানে বিরাট ভূমিকা রাখছে। তাদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশের জনগণের ভাবমূর্তিও উজ্জল হয়েছে।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে ইতিমধ্যে আমরা আলাপ আলোচনা চালিয়েছি, তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। তারা তাদের দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বলেছে। কিন্তু দূর্ভাগ্য হলো তারা সবই স্বীকার করে কিন্তু কিছুই কার্যকর করে না।’
‘তবে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে এবং বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের সকলেই এখন সমর্থন জানাচ্ছে। কাজেই আমরা আশা করি যে এই সমস্যাটা আমরা সমাধান করতে পারব’ আরও যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশের সেনা সদস্যদের জন্য নেওয়া কল্যাণমুখী নানা পদক্ষেপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রসদ বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতা বাড়িয়েছি। তাদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। প্রথমবারের মতো আমরা সেনাবাহিনী প্যারা কমান্ডো ইউনিট চালু করেছি। ‘৯৬ সালে মেয়েদের সেনা ও বিমানবাহিনীতে নিয়োগের ব্যবস্থা করি। নারী পাইলট সংযোজন করে নতুন যুগের সূচনা করি। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য কেন্দ্র করে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেনা সদস্যের জন্য ২ লাখ টাকার দুঃস্থ ভাতা ৬ লাখ টাকা করে দিয়েছি। এলপিআর-এর মেয়াদ ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর জেসিও পদকে দ্বিতীয় থেকে প্রথম শ্রেণির করা হয়েছে। সার্জেন্টকে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করেছি।’

স্বাধীনতার প্রতীক, সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, এই বাহিনীর সার্বিক উন্নয়ন করা সরকারের দায়িত্ব বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাই তাদেরকে এর ধারাবাহিকতা রক্ষার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ-এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৮ এর নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দেয়, আমরা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসি। ২০০৯ এ আমরা জানুয়ারিতে সরকার গঠন করি। দূর্ভাগ্যের বিষয় যে দেশকে আমি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে উদ্ধৃত্ত রেখে এসেছিলাম সেই দেশে পাই আবার ৩০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি। আমাদের প্রচেষ্টায় আজকে আর সেই দুর্দিন নেই। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছি।’

‘মানুষের খাদ্য নিরপত্তা যেন নিশ্চিত থাকে সে বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সতর্ক এবং সেটা আমরা করতে সক্ষম হয়েছি’ বলেও জানান তিনি।
সৈনিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, কর্মপরাণয়তা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্ম সম্পাদনে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবেন বলে আমি আশা করি। কারণ এখন উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা কিন্তু সকলে সম্মিলিতভাবেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের দেশের সম্পদ এবং দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক। তাই পেশাদারিত্বের কাঙ্খিত মান অর্জনের জন্য আপনাদের সকলকে পেশাগতভাবে দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ এবং মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হতে হবে। পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’

‘বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা যেমন সাবমেরিন কিনে সাগরের নিচে যাওয়ার অধিকার অর্জন করেছি, এছাড়া প্রতিবেশী দেশের সাথে যে সীমানা সমস্যা ছিল তা সমাধান করেছি, আবার সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার রক্ষিত হয়েছে। এবং ছিটমহল বিনিময়ে বাংলাদেশ কিন্তু একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এতো শান্তিপূর্ণভাবে কোন দেশে ছিটমহল বিতরণ কোনো দেশে হয়নি’ বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু সাটেলাইট-১ এর সফলভাবে উৎক্ষেপণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমরা মহাকাশে পৌঁছে গেছি, আমাদের বঙ্গবন্ধু সাটেলাইট-১ ইতিমধ্যে খুব সফল্ভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। সারা দেশে আমরা ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার করেছি, ৮ হাজার ৫০০ পোস্ট অফিসকে আমরা ডিজিটাল সেন্টারে উন্নীত করেছি এবং বাংলাদেশের জনগণ এখন অনলাইনে সব রকম সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল খাতে এ স্যাটেলাইট যেমন উপযোগী হবে, চিকিৎসা সেবাসহ সার্বিক উন্নয়নেও এটি ভূমিকা রাখবে। সেই সাথে অন্য দেশের কাছে ভাড়া দিয়েও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব। কাজেই এটাও আমাদের জন্য একটা বিরাট অর্জন যে আমরা আজকে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছি এমন একটা জায়গায় যেখানে বাংলাদেশ ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। তাই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে বিরাট মর্যাদা অর্জন করেছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here