ফের চলন্ত বাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আটক ৫

ফের চলন্ত বাসে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবার ঢাকার অদূরে ধামরাই উপজেলায় রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে যাত্রীবাহী একটি চলন্ত বাসে একজন নারী পোশাক শ্রমিক দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। পুলিশ ধাওয়া দিয়ে বাসটি থামিয়ে ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে বাসটির চালক ও চালকের সহযোগীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে। গতকাল রবিবার রাত ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে ব্যস্ততম ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পুলিশ যে পাঁচজনকে আটক করেছেন তারা হলেন- বাসচালক চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের কোর্টপাড়া গ্রামের মৃত শফি মল্লিকের ছেলে বাবু মল্লিক (২৫), গাড়ির মিস্ত্রি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ি থানার দেওখোলা গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল আজিজ (৩০), বাসের সুপারভাইজার নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার সরকার বাড়ি গ্রামের মোহর লালের ছেলে বলরাম (২০) এবং তাদের সহযোগী ধামরাই থানার গাওয়াইল গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে মো. সোহেল রানা (২২) ও একই উপজেলার কেলিয়া গ্রামের মৃত রাজু সরদারের ছেলে মকবুল হোসেন (৩৮)।

পুলিশ জানায়, ধামরাইয়ের ইসলামপুরে ভাড়ায় বসবাসরত ওই নারী পোশাক শ্রমিক ধামরাইয়ের শ্রীরামপুর এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। রবিবার রাত ৯টার দিকে কারখানাটি ছুটি হয়ে যায়। ছুটির পর তিনি বাসায় ফেরার জন্য রাস্তায় বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। এক পর্যায়ে ঢাকাগামী যাত্রীসেবা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাঁর সামনে এসে দাঁড়ালে তিনি ওই বাসটিতে উঠে পড়েন। শ্রীরামপুর থেকে বাসটি পরবর্তী বাসস্ট্যান্ড কালামপুরে পৌঁছলে ওই নারী পোশাক শ্রমিক ব্যতীত বাসের সকল যাত্রী নেমে যায়। এ সুযোগে বাসচালক বাবু তার সহযোগী সোহেলের হাতে বাস চালানোর দায়িত্ব দিয়ে তিনি (বাস চালক) এবং তার সহযোগীরা ওই নারী পোশাক শ্রমিককে বাসের পিছনের সিটের দিকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। এ সময় ওই নারীর চিৎকারে মহাসড়কে টহলরত পুলিশ বাসটিকে থামানোর সংকেত দেয়। কিন্তু চালকের আসনে বসা সোহেল সংকেত অমান্য করে বাসটি না থামিয়ে দ্রুত ঢাকা অভিমুখে ইসলামপুরের দিকে চালাতে থাকেন। এ সময় পুলিশ ওই বাসটির পিছু নিয়ে প্রায় সাত কিলোমিটার পর্যন্ত ধাওয়া করে মহাসড়কের কসমস এলাকায় বাসটি থামাতে সমর্থ হয়। পরে বাসের ভেতর থেকে ওই নারী পোশাক শ্রমিককে উদ্ধার এবং বাসে থাকা পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ রিজাউল হক জানান, ওই নারীকে থানা হেফাজতে আনার পর তিনি নিজে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আটককৃতরা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। দুপুরে তাদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ওই নারী পোশক শ্রমিককে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিস) পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া আটককৃতরা সংঘবদ্ধভাবে আরো কোনো ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে একটি বহুজাতিক কম্পানির কর্মী রূপা খাতুন চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে যায়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায়ে আদালত বাসটির চালক হাবিবুর (৪৫), চালকের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। আর বাসের সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) সাত বছরের কারাদণ্ড দেন।

এ ছাড়াও গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় যাত্রীবেশী কয়েকজন ডাকাত হানা দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণসহ যাত্রীদের সর্বস্ব লুট ও ছুরিকাঘাত করে বাসটির চালককে হত্যা করে। ওই ধর্ষণ, ডাকাতি ও খুনের ঘটনার ২৩ দিন পর গত ৯ মার্চ ভোর রাতে আশুলিয়ার টংগাবাড়ি এলাকায় ঘটনার মূল হোতা রুবেল পুলিশের কথিত ক্রসফয়ারে নিহত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here